চট্টগ্রাম অঞ্চল

বৈষম্যবহামলার মামলায় ফটিকছড়ি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আজম গ্রেপ্তার

  forkan info ৩ আগস্ট ২০২৬ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনকে হত্যাচেষ্টা, মারধর, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজম নুর (আজম নুর)কে গ্রেপ্তার করেছে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিবিরহাট বাজারের বীর জাহানারা কমপ্লেক্সে ‘দুবাই বাবেকা হার্ডওয়্যার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন কামাল উদ্দিন (৪৫)। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত আজম নুরের সঙ্গে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তার বিরোধ চলছিল।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আজম নুরসহ ৪–৫ জন তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তারা এসএস পাইপ দিয়ে হামলা চালায়। এতে কামাল উদ্দিনের ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ভাই নাছির উদ্দিনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে কামাল উদ্দিনের পকেটে থাকা দোকানের বিক্রির ৯৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করলে পুনরায় হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

আহত কামাল উদ্দিনকে দ্রুত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার ভাই নাছির উদ্দিন।

মামলায় মো. নুরুল আজমের নাম উল্লেখ করে আরও ৪–৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, নুরুল আজমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

আরেকটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় নুরুল আজমের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা, উসকানি এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার নথিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে কয়েকশ সশস্ত্র ব্যক্তিকে নিয়ে মিছিলে হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এতে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর নুরুল আজম আত্মগোপনে থেকে সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন অপতৎপরতায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নাছির উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ আগস্ট রাতে ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আজমের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নাছির উদ্দিন ও কামাল উদ্দিনের দায়ের করা চারটি মামলা, তার বড় ভাই নুরুল আলম নুরের স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলা, শহীদুল্লাহ চৌধুরীর করা চেক প্রতারণার মামলা, বিবিরহাট বাজারে দোকান দখলসংক্রান্ত মামলা এবং নুসরাত জাহানের দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার হওয়া নুরুল আজম কিংবা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।